থাবা বাবা ( রাজীব হায়দার) কী ধর্মের জন্য ” বলি ” হল নাকি আন্দোলনের জন্য?

প্রথমেই আসি ধর্মের প্রসঙ্গে। আমরা যারা ফেসবুক ও ব্লগে থাবা বাবাকে চিনি তারা সকলেই জানি থাবা বাবার সবচেয়ে বেশি লেখা ধর্ম নিয়ে। বিশেষ করে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে। এখন কথা হচ্ছে ধর্মকে ব্যঙ্গ করে বা নাস্তিকতার জন্য তার উপর এই নির্মম আঘাত কী আসল? আমি বলব না। এই আঘাত শুধু তার নাস্তিকতা বা ধর্মের সমালোচনার জন্য আসে নি। কারণ যদি আসত তাহলে অনেক আগেই এই আঘাত আসতে পারত। তাহলে কথা আসে এই আঘাত এখন আসল কেন?

kobid95175700511f33e199

যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির জন্য যখন আন্দোলন শুরু হয় তখন থেকেই জামাত-শিবির এই আন্দোলনকে ব্যর্থ করার জন্য বিভিন্ন গুজব ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে। প্রথম দিকে এই আন্দোলনকে নাস্তিক ও বামদের আন্দোলন বলে আসছিল। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণের জন্য তাদের এই প্রোপাগান্ডা ব্যর্থ হয়। তারপর তারা এই আন্দোলনকে নাটক, সরকারের গেম ইত্যাদি বলে আসছে। জামাত-শিবিরের এমন মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডার সাথে যুক্ত হয়েছিল আমাদের দেশ এর মতন টিস্যু-পেপারের মতন পত্রিকাগুলো। আন্দোলনে জনগণের সম্পৃক্ততা দেখে জামাত-শিবির ভয় পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তার উপর আন্দোলনে জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী উঠেছে। তারপর থেকেই তারা এই আন্দোলনকে বানচাল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে থাকে। কয়দিন আগেই পুলিশের কাছে তাদের এক কর্মী স্বীকার করল যে; সারা দেশ থেকে ঢাকা শহরে কর্মী আনা হচ্ছে জনপ্রতি দুইশ টাকা দিয়ে। উদ্দেশ একটাই যুদ্ধাপরাধী বিচার বানচাল ও শাহবাগ আন্দোলন বানচাল। এখন কথা হল কেন থাবা বাবাকে বেছে নেওয়া হল। আরও অন্য ব্লগার তো ছিল। অনেক বড় বড় ব্লগার তো জড়িত এই আন্দোলনের সঙ্গে। তাহলে কেন এই থাবা বাবা?
আপনাদের আগেই মনে রাখতে হবে; জামাত-শিবির কিন্তু কাঁচা কাম করে না। এদের প্রতিটি হত্যা ও ঘটনায় সূক্ষ্ম পরিকল্পনা থাকে। এই হত্যাও তার বাহিরে নয়। এই হত্যাও তারা সু-পরিকল্পিতভাবেই ঘটিয়েছে। তারা ব্লগারদের মধ্যে বেছে নিল থাবা বাবাকে। যিনি এই আন্দোলনের সাথে যুক্ত। এই আন্দোলনের পক্ষে অনলাইনে যুদ্ধ করে যাচ্ছিলেন। আগেই বলেছি তার অসংখ্য লেখা আছে ধর্ম নিয়ে। স্বভাবতই তাকে আঘাত করার পর অনলাইনে সংবাদটি ছড়িয়ে পড়বে, পত্রিকায় তার নাম আসবে, শাহবাগ থেকে তার পক্ষে কথা বলা হবে ঠিক তখনই তার লেখাগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেবে ছাগুরা। লক্ষ্য করলে দেখবেন; থাবা বাবার হত্যার পর থেকেই বিভিন্ন পেইজ ও ছাগু আইডিতে থাবা বাবা নাস্তিক বলে গালাগালি ও সাথে তার লেখা গুলোর লিংক শেয়ার করা হচ্ছে। এই কাজ করার ফলে কিছু অসহায় ধর্মপ্রাণ মানুষ লেখাগুলো দেখে ব্যথিত হচ্ছে এবং মানুষিক ভাবে থাবা বাবার বিপক্ষে চলে যাচ্ছে। অনেকে তো দেখলাম কমেন্ট করতে- “ যেই এই কাজ করেছে তাকে ধন্যবাদ কারণ এর এমনই হওয়া উচিত ছিল”।
যারা এমন কথা বলছেন তাদেরকে চলছি; আপনি একবার ভাবুন তো আপনার কোন লেখা যদি অন্য কারোর ভালো না লাগে বা অন্য কাউকে আঘাত করে এর মানে কী এই; ঐ লোকটা আপনাকে হত্যার করার বৈধতা রাখে? কারো লেখা ভাল না লাগলে জাস্ট ইউনোর করেন। তার আইডিতে বা তার লেখায় যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আপনি যদি লেখার জবাব লেখায় দিতে না পেরে শারীরিক আঘাতে দেন এবং এর পক্ষে সাফাই গান তাহলে আপনাকে কাপুরুষই বলতে হচ্ছে। আপনি তাকে তার মতাদর্শের জন্য হত্যা করায় খুশি হলেন কিন্তু কয়দিন পর যে আপনার মতাদর্শের জন্য আপনি খুন হবেন না তার গ্যারান্টি কী?
বর্তমানে থাবা বাবার লেখা গুলোকে সামনে এনে চলমান আন্দোলনে বিভেদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। তারা বার বার প্রমাণ করতে চাচ্ছে এটা নাস্তিকদের আন্দোলন এটা ইসলামের শত্রুদের আন্দোলন। তাই আমাদের সর্তক থাকতে হবে এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জামাত-শিবির যেন কোন ফায়দা নিতে না পারে। আন্দোলনের কারণে থাবা বাবাকে জবাই হতে হল তাই আমাদের সকলেই নৈতিক দায়িত্ব এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য ঝাঁপিয়ে পরা। আন্দোলন যদি সার্থক হয় তাহলেই হয়তো থাবা বাবা প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর মতন কোন কাজ হবে।
আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে থাবা বাবা সবসময় জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছিলেন, ছিলেন সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধেও। তাই তো রাজাকারের ফাঁসি ও জামাত-শিবির নিষিদ্ধে দাবীতে রাজপথে নেমেছিলেন তিনি। তাই তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় আদর্শকে বড় করে না দেখে দেশের প্রতি তার ভালবাসা ও দৃষ্টিভঙ্গিটিতেই বড় করে দেখুন। কারণ থাবা বাবা একটু শিবির মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যেই আমার, আপনার মতন রাজ পথে নেমেছিল। তাই এই দায় আমরা কেউ এড়াতে পারি না।
থাবা বাবার লাস্ট পোস্ট-
কোথায় কিভাবে বর্জন করতে হবে তার রূপরেখা নির্ধারণ করাটা খুব জরুরী। কারণ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোথায় নেই তারা… একতা বাদ দিয়ে অন্যটাতে যাব, সেখানেও তাদের সেবাই নিতে হবে! আজকে যে ইন্টারনেট সেবা নিয়ে আমরা অনলাইনে আন্দোলন করছি তার মধ্যেও তো জামাতি অংশ আছে… তার মানে কি সর্ষেতে ভূত নাকি আমরা পয়সা দিয়ে নেটের কিলোবাইটস কিনছি বলে সেটা সিদ্ধ!
একটু চিন্তা করা দরকার… একটা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন খুব জরুরি! কারন জামাতি প্রতিষ্ঠান বলে যাদের বয়কট করবো, তার মালিকানা রাতারাতি বদলে যেতে পারে… সিম্পল শেয়ার আদান প্রদানেই মালিকানা বদলে যাবে!  তবে আমার জায়গা থেকে একতা জিনিস আমি বলতে পারি, পরিচিত জামাত সংশ্লিষ্ট পণ্য ও প্রতিষ্ঠান যার যার জায়গা থেকে বর্জন করুন, যেমন তাদের মূল কাগজ সংগ্রাম বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-কোচিং ও তাদের সাংস্কৃতিক সংগঠন!

থাবা বাবা আমাদের ক্ষমা কর। আমাদের ব্যর্থতার কারণেই তোমাকে আজ “বলি” হতে হল। আমাদের দুর্বলতাই কথাই শুধু বলে যাচ্ছে তোমার ঐ নিথর দেহ। অনেক অভিমান নেয়ে দেহটি পড়ে ছিল রাস্তায়। আমরা তোমাকে বাঁচাতে পারলাম না। তবে কথা দিচ্ছি তোমার আমার সকলের স্বপ্ন পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব। রাজপথ ছাড়ছি না।
জয় বাঙলা।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s