শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২৯টি কিংবা তারও বেশি জঙ্গী সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে! (২০১৩)

শুধুমাত্র বাংলাদেশেই ২৯টি কিংবা তারও বেশি জঙ্গী সংগঠনের অস্তিত্ব রয়েছে!

উল্লেখযোগ্য সংগঠন:
জমিয়াতুল মুজাহিদিন,
জাগ্রত মুসলিম জনতা,
শাহাদাত-ই আল হিকমা,
হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি,
শহীদ নসুরুল্লাহ আল আরাফাত ব্রিগেড,
হিজবুত তাওহিদ,
জামায়াত-ই ইয়াহিয়া,
আল তুরাত,
আল হারাত আল ইসলামিয়া,
জামাতুল ফালাইয়া তাওহিদি জনতা,
বিশ্ব ইসলামী ফ্রন্ট,
জুম্মাতুল আল সাদাত,
শাহাদাত-ই-নবুওয়ত,
আল্লাহর দল,
জইশে মোস্তফা বাংলাদেশ,
আল জিহাদ বাংলাদেশ,
ওয়ারত ইসলামিক ফ্রন্ট,
জামায়াত-আস-সাদাত,
আল খিদমত,
হরকত-এ ইসলাম আল জিহাদ,
হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ,
মুসলিম মিল্লাত শরীয়া কাউন্সিল,
ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ফ্রন্ট ফর জিহাদ,
জইশে মুহাম্মদ,
তা আমীর উদদ্বীন বাংলাদেশ,
হিজবুল মাহাদী,
আল ইসলাম মার্টায়ারস ব্রিগেড,
তানজীম!

নিষিদ্ধ চারটি আত্মস্বীকৃত জঙ্গি প্রতিষ্ঠান:
শাহাদাত-ই-আল হিকমা (2004)
জমিয়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি,2005)
জাগ্রত মুসলিম জনতা বাংলাদেশ (জেএমজেবি,2005) ও
হরকাতুল জিহাদ (2005)!

অভিজিত্‍ রায়ের একটা কথা খুবই বলতে ইচ্ছে হচ্ছে:-‘ধর্ম যদি মানুষের নৈতিকতার চাবিকাঠি হতো তবে বাংলাদেশ এতোদিনে বেহেস্ত হয়ে যেত!’ কেননা সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশে ধর্মবিশ্বাসী মানুষের হার ৯৯ !! অথচ এই বিশ্বাস আরো বাড়িয়েছে ভায়োলেন্স যা ইতোপূর্বেই বহু প্রাণ খেয়েছে, প্রতিটা মাদ্রাসা যেন হয়ে উঠছে জঙ্গি আর অস্ত্রের তাবত্‍ গোডাউন! যার ফল দুর্নীতিতে শীর্ষে! তবুও নানা গোঁজামিল আর এদের ইসলামচ্যুত বলে এড়িয়ে যেতে চাইবেন অনেকেই। এসব জিহাদীদের কল্যাণেই ‘ইসলামী সন্ত্রাসবাদ’ সারাবিশ্বে এখন একটি প্রতিষ্ঠিত শব্দ। কিভাবে আর কেন তৈরি হয় মোল্লা ওমর,বিন লাদেন, মওলানা মান্নান, গোলাম আজম,শাইখ আব্দুর রহমান,মুফতি হান্নান আর বাংলা ভাইয়েরা? লাদেন বিমান হামলায় অমানবিকভাবে হত্যা করে নিরপরাধ ৩০০০ মানুষকে! এই হত্যার আগেই সে ১১ই জানুয়ারী ১৯৯৯ তে News Week এর একটি সংখ্যায় সকল আমেরিকানদের মেরে ফেলা জায়েজ বলে অভিমত দিয়েছিলেন! কি হাস্যকর অমানবিক ধর্মপরায়ণতা!

জিহাদে জীবন বিলিয়ে দেয়া, কাফির হত্যা ও নির্যাতন এবং বৈষম্যের অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে ধর্মই যার প্রমাণ শুরু হয়েছে ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকে। সেখানেও ছিল অমুসলিমদের প্রতি বৈষম্য যা কালে কালে রূপায়িত হয়েছে জিহাদী যুদ্ধের মাধ্যমে। কষ্টদায়ক সত্য হলো জঙ্গিবাদের মূল ইন্ধন যোগায় ধর্ম এবং ধর্মবাদী গোঁড়ারা! রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত কোন কিছু আদৌ মানবতার পর্যায়ে পড়ে কিনা জানিনা!

মধ্যযুগের ইসলামী জিহাদ:
৬২৩-৭৭৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সংঘটিত হয় ৬৯টির বেশি বড় জিহাদী যুদ্ধ যাতে প্রাণ হারায় অগণিত অমুসলিম। গত বারো শতক ধরে সারা পৃথিবীতে ইসলামী জিহাদে হত্যা করা হয়েছে মিলিয়নের ওপর মানুষ। ভাবতেই ঘেন্না হয়।

ইতিহাসের পাতা রক্তাক্ত করে সগৌরবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে এই নামমাত্র মানবতার অমানবিকতা। ছোটবেলায় আধো আধো ধর্ম শিখে গর্বিত হয়ে আমার হিন্দু বন্ধুদের ‘মালায়ন’, ‘মালু’, ‘দুর্গার সন্তান’ বলে কটাক্ষ করতাম, আর সেদিন রুমে আটকা পড়া একটা সাদা বিড়ালের আমার দিকে করুণ চাউনীতে তাকিয়ে ‘মিউ মিউ’ করাটাও আমার চোখে জল এনে দিয়েছিল! আমি একজন মুসলমান হয়ে কখনো হীনমন্যদের মতো গর্ববোধ করিনা, বুকের পাজর থাপড়ে সেদিনই বড়মুখে গর্ব করবো যেদিন মানবিকতায় পূর্ণ একজন মানুষ হতে পারবো॥

তথ্যসূত্র:
১. প্রথম আলো,
১৮ই অক্টোবর, ২০০৫
2. Holy Horrors: An illustrated History of Religious Murder and Madness,
James A. Haught, 1990
3. The Early History of Islam
4. The History of Al-Tabari, Vol. 17 & 18
Abu Jafar Muhammad ibn Jarir Al-Tabari

-সংগৃহীত

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s