একজন বযলুর রহমান

বযলুর রহমান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খুবই কম। শফিকুর রহমানের “হিউম্যানিজম” বইয়ের ভূমিকায় বযলুর রহমান সম্পর্কে সামান্য আলোচনা আছে। আবুল হাসানাৎ নাস্তিক ছিলেন। তিনি নিজেই বলতেন; কোন ঈশ্বরে তিনি বিশ্বাস করেন না। আবুল হাসানাৎ এর সাথে হক্কোন নূর দরবার শরীফের পীর জনাব বযলুর রহমানের সঙ্গে ঈশ্বর নিয়ে তর্ক হতো। অবশ্য তা পত্রের মাধ্যমে। সেসব পত্র থেকে দেখা যাবে আস্তিক বযলুর রহমানের সাথে নাস্তিক আবুল হাসানাৎ এর তর্ক-বিতর্ক। মজার বিষয় হল এতো তর্ক-বিতর্কেও তাদের দুজনের মধ্যে কখনো তিক্ততা সৃষ্টি হয়নি, সম্পর্কের অবনতি হয়নি। পীর সাহেব (বযলুর রহমান) ইসলাম প্রবর্তকের হাদিস বলতেন, ইখতিলাফু ইম্মতি রহমাতুন (আমার উম্মতের মধ্যে মতভেদ রহমত বা আশীর্বাদস্বরূপ)। কোরানের উদ্ধৃতি দিতেন, “লাকুম দ্বীনুকুম ওলিয়া দ্বীন” (তোমার জন্যে তোমার ধর্ম, মতবাদ ও বিশ্বাস; আর আমার জন্যে আমার ধর্ম, মতবাদ ও বিশ্বাস)। আর শফিকুর রহমানরা বলতেন “Let us agree to disagree” বলা-বাহুল্য ৬৮/৬৯ সালে বযলুর রহমানের জিজ্ঞাসা গ্রন্থে ধর্মান্ধদের মাঝে গণহিস্টিরিয়া সৃষ্টি করে। যে কয়জন চিন্তাশীল ব্যক্তি সে গণআচরণ ও উত্তেজনার বিরুদ্ধে কলম ধরেন তাঁদের মাঝে ‘বাংলার বিবেক’ আবুল ফজল ও আবুল হাসানাৎ অন্যতম। আবুল হাসানাৎ Recent outburst of thoughtless emotion প্রশমনের জন্যে লেখেন A plea for Rationalizing Islamic Thinking to Muslim Intellectuals and well-wishers of Islam. তিনি তাতে সচেতন ও দায়িত্বশীল সকল নাগরিক ও সরকারকে পরামর্শ দেন ও অনুরোধ করেন to discourage, by all means at their command, such agitations and to encourage the very spirit of Free Enquirer. আবুল ফজল লেখেন, “এটি অশুভ লক্ষণ,” তাতেও একই বক্তব্য। বযলুল রহমান আস্তিক হয়েও হিস্টিরিয়াগ্রস্থ ধার্মিকদের হাত থেকে রক্ষা পান নাই। ধর্মবাদীদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যে আবুল হাসানাৎ ইংরেজিতে তার লেখালেখি করতেন। আলবার্ট হ্যানসেন, অধ্যাপক এডওয়ার্ড ব্রাউন, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ সৈয়দ আবু আব্দুল্লাহ প্রভৃতি তাঁর ছদ্মনাম ছিল। যাই হোক বযলুর রহমানের প্রসঙ্গে ফিরে যাই।

ধর্ম বিষয়ে অনেক প্রশ্ন নিয়ে একটি বইয়ের নাম ‘জিজ্ঞাসা’। বইটির প্রশ্নগুলো আরজ আলী মাতুব্বরের ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সত্যের সন্ধানে’ এর অনুরূপ। তবে এই বইটি মুদ্রিত হয়েছে ‘সত্যের সন্ধানে’ এর পাঁচ বছর আগে ১৯৬৮ সালে। বইটির লেখক বযলুর রহমান বর্তমান ঝালকাঠি জেলাধীন কাঠালিয়াস্থ শৌলজালিয়া গ্রামের পির ‘হক্কোন নূরী’ হিসেবে পরিচিত। লক্ষণীয় যে বযলুর রহমান ছিলেন তৎকালীন জেনারেল শিক্ষায় শিক্ষিত এবং স্নাতক ডিগ্রিধারী। একই সাথে তিনি ছিলেন ধর্মীয় ধারায় এক আধ্যাত্মিক সাধক। সেই সাধনার মধ্যে থেকেই তিনি ইসলাম সম্পর্কে এমন কিছু প্রশ্ন তুললেন এবং সেসবের এমন জবাব বইয়ে লিপিবদ্ধ করলেন যে তৎকালীন শরিয়তপন্থী মৌলভীরা মারাত্মক ক্ষেপে গেলেন। মাহমুদিয়া মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতাদের একজন তথা জামে এবাদুল্লাহ মসজিদের খতিব জনাব ইয়াসিন বেগ প্রমুখের নেতৃত্বে তারা এই বইয়ের বিরুদ্ধে ১৯৬৮ সালে বরিশালে মিছিল করলেন এবং বইয়ের কপি পোড়ালেন। মিছিল নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হল। অবশেষে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বইটি নিষিদ্ধ করলো।

জিজ্ঞাসা বইটি ডাউনলোড করতে চাইলে-এখানে

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s