একাত্তরে চরমোনাইর পীরের ফতোয়া

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পীর ও ধর্মীয় নেতাদের বড় একটা অংশ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর পক্ষে সরাসরি কাজ করে। ৭১-এর যুদ্ধকে পাকিস্তান জিহাদ হিসেবে ঘোষণা করে নিজ দেশের মানুষ থেকে যেমন যুদ্ধের অর্থ যোগার করে তেমনি বাংলাদেশের অনেক পীর, ওলামারা এই দেশের অমুসলিম ও অসহায় নারীদের গণিমতের মাল হিসেবে ঘোষণা করে। যেমন-শর্ষিণার পীর আবু সালেহ মোহাম্মদ জাফর হিন্দু রমণীদের গণিমতের মাল হিসেবে ঘোষণা করে। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এসব স্বাধীনতার পর জামাত ও মুসলিম লীগের রাজাকাররা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হলেও এসব পীর ওলামারা নিরাপদেই ছিলেন। স্বাধীনতার পর শর্ষিণার পীর গ্রেফতার হলেও তার জনপ্রিয়তা কিংবা রাজনীতিতে দাপট কোনটি ক্ষুণ্ণ হয় নাই। ঠিক একইভাবে চরমোনাইর পীর মওলানা এস এম ফজলুল করিমের কথা বলা যায়।

(নবী মুহম্মদের সময়ও জিহাদের জন্য আবু বকরের সর্বস্ব দানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে অনুদান আহ্বান করেছে মুসলিম কমার্স ব্যাংক।)

রিশাদ আহমদের সম্পাদিত ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীরা কে কোথায়’ বইতে চরমোনাইর পীরের ফতোয়ার কথা জানা যায়। কতোটা অসভ্য ও বর্বর হলে এসব পীররা বর্তমান যুগেও গণিমতের ধারণা প্রচার ও প্রয়োগ করে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে এসব ধর্মীয় পেডোফিলিয়া পীরের গ্রহণযোগ্যতা কিংবা খাদেমের সংখ্যা আমাদের সমাজে কখনো কমে নাই। বরং দিনের পর দিন সমাজে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এসের ক্ষমতা বেড়েছে। দুর্নীতিবাজ নেতারা রাজনৈতিক স্বার্থে এদের সাথে আপোষ করেছে। চলুন ’৭১ এর যুদ্ধাপরাধীরা কে কোথায়’ বই থেকে দেখা যাক ৭১-এ চরমোনাইর পীর কী বলেছিলেন।

চরমোনাইর পীর মওলানা এস এম ফজলুল করিম

মওলানা এস এম ফজলুল করিম বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে চরমোনাইয়ে একটি আবাসিক মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাক হানাদারদের অত্যাচার ও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচার জন্যে শত শত বাঙালি মেয়ে ওই মাদ্রাসায় আশ্রয় নেয়। তারা মনে করেছিল মাদ্রাসা একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আর মওলানা এসএম ফজলুল করিম একজন ধার্মিক লোক, তার আশ্রয়ে পাক হানাদার বাহিনী মেয়েদের উপর চড়াও হবে না। মওলানা সাহেব তাদের রক্ষা করবেন।

চরমোনাইর পীর ফতোয়া দিয়েছিলেন এইসব আশ্রয়হীনা ভীত মেয়েরা হচ্ছে গণিমতের মাল-পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর এদের ভোগ করা জায়েজ আছে।

নৃশংসভাবে অত্যাচারিত এইসব মেয়েদের মৃতদেহ পার্শ্ববর্তী নদীতে ফেলে দেয়া হতো বা মাদ্রাসার পেছনে গণকবরে পুঁতে ফেলা হতো। ওই মওলানা নিজ হাতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও হিন্দুকে জবাই করে নদীতে ফেলে দিয়েছিল। এদের মৃতদেহ যাতে ভেসে না উঠে সেজন্যে পেট কেটে ভাসিয়ে দেয়া হতো।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s